দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিনেমায় সাফল্যের হিসাবটা সাধারণত বেশ সরল। একজন অভিনেতার ছবির পর ছবি ব্যর্থ হলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে তার চাহিদা। কিন্তু বলিউডের এক কিংবদন্তির ক্যারিয়ার যেন সেই প্রচলিত হিসাবকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছে। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতা থেকে শুরু করে অসংখ্য ব্যর্থ ছবিতে অভিনয়, সবকিছুর পরও ৭২ বছর বয়সে এসে দিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যবসাসফল ছবি।
তিনি মিঠুন চক্রবর্তী। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক মিঠুনের। প্রথম ছবিতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এরপর আশির দশকে ‘শওকিন’ ও ‘অশান্তি’ দিয়ে সাফল্যের ধারায় আসেন। তবে ১৯৮২ সালে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।
এরপর মিঠুনের অভিনয়জীবনে বদলে যায় ছবির সংখ্যা। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর বছরে ৮ থেকে ১২টি ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। এর মধ্যে অনেক ছবিই বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।
নব্বইয়ের দশকে বলিউডে নতুন তারকাদের উত্থানের সময় মিঠুন কম বাজেটের অ্যাকশনধর্মী ছবিতে বেশি কাজ করতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এসব ছবির শুটিং শেষ করা যেত। ওই দশকেই তিনি প্রায় ১০০টি ছবিতে অভিনয় করেন, যার বেশির ভাগই বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নায়ক হিসেবে মিঠুনের সর্বশেষ একক ব্যবসাসফল ছবি ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাভান রাজ’। এরপর তিন দশকেরও বেশি সময় কেটে যায়।
পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে মিঠুন ২৭০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি ছবিকে বক্স অফিসে ‘ডিজাস্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধর্মেন্দ্র ও জিতেন্দ্র ছাড়া আর কোনো অভিনেতার ব্যর্থ ছবির সংখ্যা মিঠুনের ধারেকাছেও নেই।
তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চমক আসে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে।
১৯৮৫ সালে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ রাশিয়ায় মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি আয় করা প্রথম ভারতীয় ছবি হয়। এর মাধ্যমে ছবিটি ভারতের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার রেকর্ড দখল করে ‘শোলে’র কাছ থেকে। ১৯৯৪ সালে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সেই রেকর্ড ভেঙে দেয়।

এটাই ছিল মিঠুনের ক্যারিয়ারের শিখর। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নায়ক থেকে পার্শ্বচরিত্রে বেশি অভিনয় করতে থাকেন। বড় বাজেটের একাধিক ছবিতেও দেখা যায় তাকে।
এরপর আসে ২০২২ সাল। বয়স তখন ৭২। বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠুন। ছবিটি শুরুতে ধীরগতির হলেও পরে দর্শকের ব্যাপক সাড়া পায় এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে।
৭২ বছর বয়সে পাওয়া এই সাফল্যই হয়ে ওঠে মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ১৮০টি ব্যর্থ ছবির পরও শেষ পর্যন্ত নিজের সবচেয়ে বড় বক্স অফিস সাফল্য পেয়েছেন এমন এক সময়ে, যখন অনেক অভিনেতাই মূলধারার নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করে ফেলেন।
/অ